ঢাকা , সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ , ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতকানিয়ার ইউএনওর সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৮-২৪ ১৬:২৯:৫৫
সাতকানিয়ার ইউএনওর সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল সাতকানিয়ার ইউএনওর সাংবাদিকদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘সাতকানিয়ায় ছাগলের মতো সাংবাদিকদের সংখ্যা বাড়ছে’-সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

সোমবার এ সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তবে এটি কখনকার অডিও সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


তবে সামাজিক মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ এটিকে পেশাজীবীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য হিসেবে দেখছেন। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সাতকানিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।


কেউ কেউ বলছেন, সাংবাদিকতার পেশাগত মান, পরিচয়পত্রের অপব্যবহার কিংবা অযোগ্য ব্যক্তিদের সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হতে পারে। কিন্তু একটি গোটা পেশাজীবী গোষ্ঠীকে প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করা শোভন নয়।


স্থানীয় একাধিক সাংবাদিকের ভাষ্য, সাতকানিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা কাজ করছেন। প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম, অনিয়ম-দুর্নীতি, জনদুর্ভোগ, অপরাধ এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও
সাংবাদিকদের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের সংখ্যা নিয়ে কোনো কর্মকর্তার আপত্তি থাকলে তা নির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা যেতে পারে। কিন্তু সবাইকে এক কাতারে ফেলে এমন মন্তব্য করা হলে তা পেশাটির মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

ভাইরাল অডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মন্তব্যটির তীব্র সমালোচনা করেছেন।

সাতকানিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবর বলেন, একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে পেশাগতভাবে কাজ করেন। বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের পারস্পরিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের নিয়ে ব্যবহৃত শব্দচয়ন আরও সংযত হওয়া প্রয়োজন ছিল।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে সাতকানিয়ার ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে ঘিরে বিভিন্ন ঘটনা আলোচনায় আসে। গত ১৮ আগস্ট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন না করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর ভোটগ্রহণ ছাড়াই কমিটি গঠন নিয়ে স্থানীয় ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন।
 

এর পাঁচ দিনের মাথায়, ২৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে খোন্দকার মাহমুদুল হাসানকে সাতকানিয়া থেকে প্রত্যাহার করে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়। এর আগে তাকে রংপুর বিভাগে ন্যস্ত করা এবং পরে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে ইউএনও হিসেবে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আগের দুই দফা বদলির পরও তিনি সাতকানিয়ায় দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

 

সাম্প্রতিক এসব ঘটনার মধ্যে সাংবাদিকদের নিয়ে কথিত মন্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

খোন্দকার মাহমুদুল হাসান ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই সাতকানিয়ার ইউএনও হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মাদকবিরোধী অভিযান, অবৈধ বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে তিনি আলোচনায় ছিলেন। তবে তার কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্কও তৈরি হয়েছে।

 



নিউজটি আপডেট করেছেন : News Room 3

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ